দেশ 

মমতার সঙ্গ ছাড়ার জের ! ইউসুফ পাঠানকে জমি উপহার দিল গুজরাট সরকার

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : মমতার সঙ্গ ছাড়ার জের এবার জমি উপহার পাচ্ছেন ইউসুফ পাঠান। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রে ২০২৪ এর প্রার্থী হয়েছিলেন এবং অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে পরাজিত করে লোকসভায় প্রবেশ করেছিলেন ইউসুফ পাঠান। মমতার দলের এমপি হওয়ার কারণে তাকে দুবছর আগে জমি দখলের অভিযোগ তুলে নোটিশ পাঠিয়েছিল গুজরাটের বডোদরা প্রশাসন। আর দু’বছর পর সেই জমি উপহার হিসাবে দিচ্ছে গুজরাট সরকার ইউসুফ পাঠানকে।

এর মাঝে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল প্রবাহিত হয়েছে। পশ্চিমবাংলায় আর ক্ষমতায় নেই মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলায় ক্ষমতা এসেছে বিজেপি ক্ষমতায় আসার ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ দলে বড় ভাঙ্গন দেখা দেয়। মমতার সঙ্গ ত্যাগ করে ইউসুফ পাঠান যোগ দেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে, নাম গোত্রহীন রাজনৈতিক দল এন সি পি আই তে। আর এরই পুরস্কার স্বরূপ কি অপরাধী ইউসুফ পাঠান জমি উপহার পেলেন?

যে জমি নিয়ে বিতর্ক, তার মাপ ৯৭৮ বর্গমিটার। বডোদরা পুরসভার অভিযোগ, তাদের ওই জমিটি ইউসুফ পাঁচিল তুলে জবরদখল করেছেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের চাপানউতর দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। ২০১২ সালে ইউসুফ পুরসভার কাছে আবেদন করেছিলেন, জমিটি নিলাম না-করে তাঁকে ৯৯ বছরের লিজে দেওয়া হোক। কারণ, তাঁদের পারিবারিক বাংলো লাগোয়া জমিটি অন্য কারও হাতে গেলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। ২০১২ সালের মার্চ মাসেই ভারতের হয়ে শেষ একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন ইউসুফ। তার পর ২০১৭ পর্যন্ত খেলেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে। ফলে তাঁর নিরাপত্তার প্রশ্ন একটা ছিলই। সেই সময় বিজেপি পরিচালিত বডোদরা পুরসভা ইউসুফের প্রস্তাব মেনেও নেয়। ৫৭, ২৭০ টাকা প্রতি বর্গমিটার দরে মোট ৫ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা জমা দিতে বলা হয় ইউসুফকে।

কিন্তু নিলাম না করে এ ভাবে কোনও এক জনকে জমি দিতে গেলে রাজ্য সরকারের সম্মতির প্রয়োজন হয়। ২০১৪-র জুনে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এই প্রস্তাব খারিজ করে দেয়। এর পরেই পুরসভা অভিযোগ করে, ইউসুফ জমিটির চারপাশে পাঁচিল তুলে ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।

২০২৪-এর মে মাসে বহরমপুরের পাঁচ বারের কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরীকে হারিয়ে লোকসভায় যান ইউসুফ পঠান। জুন মাসেই তাঁকে জমি খালি করতে বলে নোটিস ধরায় বডোদরা পুরসভা। গুজরাত হাই কোর্টে মামলা করেন ইউসুফ। ২০২৫-এর অগস্টে আদালত রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। ইউসুফ ডিভিশন বেঞ্চে যান। গত জুন মাসের ১৪ তারিখ লোকসভায় তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকেই হাওয়া অন্য দিকে ঘুরতে শুরু করে। ৩১ অগস্ট হাই কোর্ট থেকে মামলা প্রত্যাহার করে নেন ইউসুফ। মঙ্গলবার জানা গেল, মোট ৯৭৮ বর্গমিটার জমির মধ্যে ৫০০ বর্গমিটার জমি তাঁকে উপহার হিসেবে দিচ্ছে পুরসভা। বাকি ৪৭৮ বর্গমিটার জমির জন্য বাজারদরের ৫৫ শতাংশ টাকা দিলেই মালিকানা পেয়ে যাবেন ইউসুফ। বডোদরা পুরসভার কমিশনার অরুণ মহেশ বাবু জানিয়েছেন, ওই জমি চেয়ে ইউসুফ যে আবেদন করেছিলেন, রাজ্য সরকার তা মঞ্জুর করেছে। পুরসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং সাধারণ সভার বৈঠকে আলোচনা করে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে।

সূত্রের খবর, ইউসুফের আবেদন মঞ্জুর করে সরকারি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে গত ১৩ অগস্ট। সে মাসেরই ২৯ তারিখ সেটি বডোদরা পুরসভায় পাঠানো হয়। সরকারি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নিলাম বহির্ভূত ভাবে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে নজির হিসেবে গণ্য করা যাবে না।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ